Menu

সম্রাটের তিন আস্তানায় সাঁড়াশি অভিযান

নিউজ ডেস্ক:: ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার সদ্য বহিষ্কৃত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের অফিস ও দুই বাসায় একযোগে অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাব। রোববার ভোরে কুমিল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর এই অভিযান চালায় র‌্যাব।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তার অফিসে একজন নির্বাহী মেজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চলছে। এছাড়া শান্তিনগরে শেলটেক টাওয়ারের পঞ্চম তলায় এবং মহখালী ডিওএইচএসের ২৯ নম্বর সড়কে সম্রাটের দুটি বাসায় অভিযান চলছে বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

র‌্যাব-৩ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিউল্লাহ বুলবুল জানান, শান্তিনগরে ১৮ তলা শেলটেক টাওয়ারের পঞ্চম তলায় সম্রাটের একটি বাসা রয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেখানেও তারা অভিযান চালাচ্ছেন।

এদিকে সম্রাটকে নিয়ে এদিন দুপুরে তার কাকরাইল কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, ঢাকায় এনে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে। দুপরে সম্রাটকে কাকরাইলের তার নিজস্ব কার্যালয়ে এনে অভিযান চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে সম্রাটের মহাখালীর বাসায় অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এ সময় সম্রাটেরদ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, সম্রাট সফট মাইন্ডের লোক। তার কাছে অস্ত্র থাকতে পারে না। আর রাজধানীতে বিদেশি স্টাইলের এতো ক্যাসিনো ছিল সেটা তো আমি জানতামই না।

সম্রাট মহাখালীল বাসায় আসতো না জানিয়ে তিনি বলেন, গত দু বছর সম্রাট এই বাসায় আসেনি। এটা পুরোনো বাসায়। এখানে লিফট নেই। সিড়ি বাইতে পারতেন না বলে তিনি এই বাসায় আসতেন না।

এসময় শারমিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ তিনি যেনো ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ আওয়ামী লীগের যত অঙ্গ সংগঠন আছে সেগুলোর জন্য আলাদা ফান্ড করেন। তাহলেই অপরাধ করার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যাবে।

তিনি বলেন, এই অভিযান আরও আগে করলে ভালো হতো। এই অভিযান চালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সম্রাটপত্নী বলেন, একটা কথা মনে রাখবেন খালি মুখে কোনো কাজ হয় না। মানুষ যখন ক্ষুদার্ত তাকে তখনই বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পরে। এছাড়া সম্রাট সফট মাইন্ডের লোক। তার কাছে অস্ত্র থাকতে পারে না। আর রাজধানীতে বিদেশি স্টাইলের এতো ক্যাসিনো ছিল সেটা তো আমি জানতামই না। দুইশ’ গজ দুরে থেকে যদি মতিঝিল থানার পুলিশ না জানে তাহলে বউ হয়ে কিভাবে জানবো? সে যদি এর সঙ্গে জড়িত হয় আমি চাই প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক।’

প্রথম স্ত্রীর ডিভোর্সের বিষয়ে শারমিন বলেন, ওই আপুটা এ্যাডভোকেট ছিল। যখন ও (সম্রাট) আসতো তখন ওই আপু (স্ত্রী) ঘুমিয়ে পড়তো। এজন্য ডিভোর্স দিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, ও অন্য লাইনে চলে গেছে। তবে ক্যাসিনোর টাকা সে সংসারে খরচ করতো না। অবৈধ টাকা পরিবারের সদস্যদের দিত না। আর দল পালতে কিন্তু টাকা না দিলে ছেলেরা মিছিল-মিটিংয়ে আসতো না। সে জন্য বিশাল অংকের টাকা লাগতো। আমার মনে হয়, সে জন্যই সে ক্যাসিনোতে গেছে।

সম্রাট ক্যাসিনোর অর্থ দলের জন্য খরচ করতো মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনারা জানেন দলের জন্য কী পরিমাণ খরচ করতো। সম্রাট মহাখালী বাসায় আসতো না জানিয়ে তিনি বলেন, গত দু’বছর সম্রাট এই বাসায় আসেনি। এটা পুরোনো বাসায়। এখানে লিফট নেই। সিঁড়ি বাইতে পারতেন না বলে তিনি এই বাসায় আসতেন না।

এর আগে ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের পুঞ্জশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি এনামুল হক আরমানকে আটক করা হয়।

The post সম্রাটের তিন আস্তানায় সাঁড়াশি অভিযান appeared first on DAILYSYLHET.COM | SYLHET NEWS | BANGLA NEWS.

সূত্র :: ডেইলি সিলেট

শেয়ার করুন:

এই নিউজটি আপনার বাংলাদেশী বন্ধুদের মোবাইলে এসএমএস এ শেয়ার করুন।

AdsMic